Info

Dol Purnima Nishi Nirmal Akash: পুরো লক্ষ্মী ব্রতকথা জানুন

দোল পূর্ণিমার রাত, নির্মল আকাশ এবং মলয় বাতাসের বর্ণনা দিয়ে যে লক্ষ্মী ব্রতকথার সূচনা, সেটিই অনেকের কাছে dol purnima nishi nirmal akash নামে পরিচিত। এটি আলাদা কোনো আধুনিক কবিতা নয়; প্রচলিত বাংলা লক্ষ্মীর পাঁচালী বা বৃহস্পতিবারের লক্ষ্মী ব্রতকথা-র একটি পরিচিত সূচনাংশ। এই পাঁচালীতে লক্ষ্মী ও নারায়ণের কথোপকথন, দেবর্ষি নারদের প্রশ্ন, মর্ত্যে লক্ষ্মী ব্রতের প্রচার এবং ধনেশ্বর রায়ের পরিবারের কাহিনি ধারাবাহিকভাবে উঠে আসে।

তবে এখানে একটি বিষয় জানা দরকার। প্রচলিত পাঁচালীর বিভিন্ন পাঠে প্রথম কয়েকটি পংক্তি ও পরবর্তী কাহিনির কিছু অংশে শব্দ বা ঘটনার সামান্য পার্থক্য দেখা যায়। কোথাও শুরুতে দোল পূর্ণিমার উল্লেখ আছে, আবার কোনো পাঠে একই ধরনের অংশকে শরৎ পূর্ণিমার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। তাই এই লেখায় প্রচলিত পাঠের মূল কাহিনি ও তথ্যকে আলাদা করে বোঝানো হলো।

Table of Contents

Dol Purnima Nishi Nirmal Akash থেকে লক্ষ্মী পাঁচালীর কাহিনি কীভাবে শুরু হয়?

প্রচলিত পাঠের শুরুতে বৈকুণ্ঠের একটি শান্ত দৃশ্য তুলে ধরা হয়। লক্ষ্মী ও নারায়ণ একসঙ্গে বসে কথা বলছেন। সেই সময় দেবর্ষি নারদ বীণা হাতে সেখানে উপস্থিত হন। তিনি লক্ষ্মী ও নারায়ণকে প্রণাম করে মর্ত্যবাসীর দুর্দশার কথা বলতে শুরু করেন। এই অংশ থেকেই লক্ষ্মী ব্রতকথা-র মূল বিষয়টি সামনে আসে।

নারদের প্রশ্নের কেন্দ্রবিন্দু ছিল লক্ষ্মীর চঞ্চল স্বভাব। তিনি জানতে চান, কেন লক্ষ্মী এক জায়গায় স্থির থাকেন না এবং কেন সাধারণ মানুষ তাঁর অনুগ্রহ থেকে বঞ্চিত হয়ে কষ্ট পাচ্ছে। পাঁচালীর বর্ণনায় সেই সময় মর্ত্যে খাদ্যাভাব, দারিদ্র্য এবং সংসারের নানা দুর্দশার কথা উঠে আসে।

এই প্রশ্নের মধ্য দিয়েই পাঁচালী শুধু দেবী লক্ষ্মীর বন্দনা হয়ে থাকে না; এটি মানুষের সংসার, অর্থাভাব এবং পারিবারিক সুখ-সমৃদ্ধির সঙ্গে লক্ষ্মী আরাধনার সম্পর্কও তুলে ধরে।

এই পাঁচালীর সময়কাল কত পুরনো?

লক্ষ্মীর পাঁচালীর প্রচলিত মুদ্রিত সংস্করণ সম্পর্কে একটি বাংলা তথ্যসূত্রে রচনাকাল খ্রিস্টীয় ১৮শ–১৯শ শতাব্দী এবং রচনাস্থল হিসেবে বরিশাল বিভাগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে রচয়িতার পরিচয় নির্দিষ্ট ব্যক্তির নামে নয়, “জনৈক বরিশালবাসী” হিসেবে দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ এই ব্রতকথার নির্দিষ্ট একজন ঐতিহাসিক রচয়িতা বা নির্দিষ্ট একটি সাল নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।

তাই dol purnima nishi nirmal akash-কে কোনো নির্দিষ্ট সালের ঘটনা বা ঐতিহাসিক কবিতা হিসেবে চিহ্নিত করা ঠিক হবে না। এটি বাংলা হিন্দু পারিবারিক ব্রত ও পাঁচালী পাঠের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যের অংশ। বিভিন্ন সময়ে এর পাঠ মুখে মুখে এবং মুদ্রিত পুস্তিকার মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

নারদ লক্ষ্মীর কাছে কী জানতে চেয়েছিলেন?

পাঁচালীর শুরুতে দেবর্ষি নারদের প্রশ্নটি কাহিনির গুরুত্বপূর্ণ মোড়। তিনি লক্ষ্মীর চঞ্চলতার কথা উল্লেখ করে বলেন, মর্ত্যের মানুষ তাঁর স্থায়ী কৃপা না পাওয়ায় নানা সমস্যায় ভুগছে। বিশেষ করে অন্নের অভাব এবং সংসারের দুরবস্থার ছবি সেখানে তুলে ধরা হয়।

এর পরেই লক্ষ্মী ও নারায়ণের মধ্যে মর্ত্যের মানুষের অবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়। নারায়ণ জানান, মানুষের মধ্যে লক্ষ্মী ব্রত প্রচার করা প্রয়োজন। বৃহস্পতিবার একত্র হয়ে সন্ধ্যায় পূজা এবং ব্রতকথা শ্রবণের মাধ্যমে দেবীর আরাধনার যে প্রথা, পাঁচালীর কাহিনিতে তারই মাহাত্ম্য ব্যাখ্যা করা হয়।

এই জায়গাটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এখান থেকেই প্রচলিত বৃহস্পতিবারের লক্ষ্মী ব্রত-র সঙ্গে পাঁচালীর গল্পের সরাসরি যোগ তৈরি হয়।

বৃহস্পতিবারের লক্ষ্মী ব্রত কীভাবে কাহিনির অংশ হলো?

প্রচলিত কাহিনিতে নারায়ণের পরামর্শে লক্ষ্মী মর্ত্যে ব্রত প্রচারের জন্য আসেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গৃহস্থ বাড়িতে লক্ষ্মী পূজা, ব্রতকথা পাঠ বা শ্রবণ এবং দেবীর আরাধনার কথা এখানে গুরুত্ব পায়।

প্রচলিত ব্রতবিধির বর্ণনায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পূজার স্থান পরিষ্কার করা, প্রদীপ ও ধূপ জ্বালানো, ঘট স্থাপন, লক্ষ্মীর ধ্যান, পুষ্পাঞ্জলি এবং ব্রতকথা পাঠের কথা পাওয়া যায়। তবে পারিবারিক রীতি ও স্থানীয় প্রথা অনুযায়ী পূজার উপাচার ও নিয়মে পার্থক্য থাকতে পারে।

পাঁচালীর গল্পে ব্রত পালনের ফল হিসেবে শুধু অর্থসম্পদ নয়, সংসারে শান্তি, পারিবারিক ঐক্য এবং অভাব দূর হওয়ার কথাও বলা হয়েছে। অর্থাৎ লক্ষ্মী পূজার পাঁচালী-র কাহিনিতে সম্পদের পাশাপাশি পারিবারিক সুস্থতাকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

অবন্তী নগরে ধনেশ্বর রায়ের পরিবার

লক্ষ্মী যখন মর্ত্যে ব্রত প্রচারের জন্য আসেন, তখন তিনি অবন্তী নগরের দিকে যান। সেখানে ধনেশ্বর রায় নামে এক অত্যন্ত ধনী ব্যক্তির পরিবারের বর্ণনা পাওয়া যায়। তাঁর সংসারে প্রচুর সম্পদ ছিল এবং সাত পুত্রকে নিয়ে পরিবারটি একসঙ্গে বসবাস করত। প্রচলিত পাঠে এই পরিবারকে সম্পদশালী এবং পারস্পরিক হিংসা-দ্বেষ থেকে মুক্ত হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

ধনেশ্বরের জীবদ্দশায় পরিবারে ঐক্য ছিল। তাঁর মৃত্যুর পর পরিস্থিতি বদলে যায়। সাত ভাই আলাদা হয়ে পৃথক সংসার শুরু করে। একসঙ্গে থাকা পরিবার ভেঙে কয়েকটি আলাদা সংসারে পরিণত হয়। এই পরিবর্তনই কাহিনির পরবর্তী অংশের ভিত্তি তৈরি করে।

ধনেশ্বর রায়ের মৃত্যুর পর কী ঘটেছিল?

ধনেশ্বর রায়ের মৃত্যুর পর সাত ভাইয়ের মধ্যে পৃথকভাবে বসবাসের প্রবণতা তৈরি হয়। পাঁচালীর প্রচলিত বর্ণনায় এর পর ধীরে ধীরে পরিবারের সমৃদ্ধি নষ্ট হওয়ার কথা বলা হয়েছে। লক্ষ্মীদেবীও সেই পরিবার থেকে সরে যান এবং একসময় তাদের সোনার সংসার ভেঙে পড়ে।

ধনেশ্বরের স্ত্রী এই পরিবর্তন মেনে নিতে পারেননি। সংসারের দুরবস্থায় তিনি গভীরভাবে ভেঙে পড়েন এবং একসময় বনভূমির দিকে চলে যান। সেখানেই কাহিনির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটে।

এই অংশে লক্ষ্মীর পাঁচালী পারিবারিক ঐক্যের বিষয়টিকে সম্পদের সঙ্গে যুক্ত করে দেখিয়েছে। ধনেশ্বরের জীবদ্দশায় যে পরিবার একসঙ্গে ছিল, তাঁর মৃত্যুর পর বিভক্ত হয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কাহিনিতে সমৃদ্ধির পতন দেখা যায়।

বৃদ্ধার ছদ্মবেশে লক্ষ্মীর আগমন

বনে ধনেশ্বরের স্ত্রীকে দেখতে পান দেবী লক্ষ্মী। তবে তিনি নিজের পরিচয় প্রকাশ না করে বৃদ্ধার ছদ্মবেশে তাঁর কাছে উপস্থিত হন। কেন তিনি সেখানে এসেছেন, তা জানতে চান এবং তাঁর কষ্টের কথা শোনেন।

ধনেশ্বরের স্ত্রী নিজের সংসারের দুর্দশার কথা জানালে বৃদ্ধারূপী লক্ষ্মী তাঁকে লক্ষ্মী ব্রত পালনের কথা বলেন। বৃহস্পতিবার ব্রত করা, ভক্তিভরে ব্রতকথা শোনা এবং গৃহে লক্ষ্মীর আরাধনা করার মাধ্যমে সংসারে আবার শুভ পরিবর্তন আসতে পারে—এমন বিশ্বাসের কথাই কাহিনিতে তুলে ধরা হয়।

এরপর দেবী নিজের পরিচয় প্রকাশ করেন। ধনেশ্বরের স্ত্রী তাঁকে প্রণাম করে বাড়িতে ফিরে যান এবং পরিবারের অন্য নারীদেরও ব্রতের কথা জানান। প্রচলিত পাঠে এরপর পরিবারের নারীরা একত্র হয়ে লক্ষ্মী ব্রত পালন করতে শুরু করেন এবং ধীরে ধীরে সংসারে শান্তি ও সমৃদ্ধি ফিরে আসার কথা বলা হয়েছে।

Dol Purnima Nishi Nirmal Akash পাঁচালীর পরের কাহিনিতে কী আছে?

ধনেশ্বরের পরিবারের ঘটনার পর পাঁচালীর কাহিনি আরও একটি পরিবারকে ঘিরে এগোয়। সেখানে একজন দরিদ্র নারী তাঁর অসুস্থ ও উপার্জনে অক্ষম স্বামীর জন্য লক্ষ্মীর কাছে প্রার্থনা করেন। তিনি ধনেশ্বরের বাড়িতে লক্ষ্মী ব্রত পালনের কথা জানতে পারেন এবং নিজেও ব্রত করার সংকল্প নেন। প্রচলিত বর্ণনায় দেবীর কৃপায় তাঁর স্বামীর সুস্থতা এবং সংসারে সমৃদ্ধি ফিরে আসার কথা বলা হয়েছে।

এরপর কাহিনির আরেক অংশে সদাগরের প্রসঙ্গ আসে। সম্পদ ও ব্যবসায় সাফল্য থাকা সত্ত্বেও তিনি লক্ষ্মী ব্রতের গুরুত্বকে উপেক্ষা করেন। পরে তাঁর সংসারে বিপর্যয় নেমে আসে এবং তিনি নিজের ভুল উপলব্ধি করেন।

সদাগরের এই অংশটি পাঁচালীর একটি পরিচিত শিক্ষা তুলে ধরে—শুধু সম্পদ থাকলেই তা স্থায়ী হয় না; দেবীর প্রতি শ্রদ্ধা, ব্রত এবং পারিবারিক শৃঙ্খলাকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এই ধর্মীয় কাহিনিতে।

লক্ষ্মী পাঁচালীতে বৃহস্পতিবারের গুরুত্ব কী?

বৃহস্পতিবারের লক্ষ্মী ব্রত এই কাহিনির অন্যতম প্রধান বিষয়। প্রচলিত ব্রতবিধিতে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় লক্ষ্মী পূজা ও ব্রতকথা পাঠের উল্লেখ রয়েছে। তাই অনেক বাঙালি পরিবারে বৃহস্পতিবারকে লক্ষ্মী আরাধনার বিশেষ দিন হিসেবে মানা হয়।

পাঁচালীর কাহিনিতে ব্রত শুধু একটি পূজার নিয়ম নয়। ধনেশ্বরের পরিবারের ভাঙন, দুঃখী পরিবারের প্রার্থনা এবং পরবর্তী পরিবর্তনের ঘটনাগুলোর মাধ্যমে ব্রতের ধর্মীয় তাৎপর্য বোঝানো হয়েছে।

তবে বাস্তবে কোন পরিবার কী উপাচার ব্যবহার করবে, কখন পূজা করবে বা কীভাবে ব্রত পালন করবে, তা পারিবারিক রীতি অনুযায়ী আলাদা হতে পারে। তাই একটি নির্দিষ্ট নিয়মকেই সবার জন্য বাধ্যতামূলক বলা ঠিক নয়।

দোল পূর্ণিমার সঙ্গে লক্ষ্মী পাঁচালীর সম্পর্ক কী?

এখানেই dol purnima nishi nirmal akash কথাটির বিশেষ গুরুত্ব। এটি লক্ষ্মী পাঁচালীর প্রচলিত সূচনাংশের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত একটি বাক্যাংশ। অনলাইনে এই শব্দবন্ধ দিয়ে খোঁজ করলে মূলত লক্ষ্মীর পাঁচালী, লক্ষ্মী ব্রতকথা এবং বৃহস্পতিবারের লক্ষ্মী পূজার পাঠই সামনে আসে।

তবে নামের মধ্যে “দোল পূর্ণিমা” থাকলেও পুরো পাঁচালীকে শুধু দোল উৎসবের দিনের পূজার পাঠ হিসেবে দেখা ঠিক নয়। প্রচলিত লক্ষ্মী ব্রতকথা মূলত বৃহস্পতিবারের লক্ষ্মী আরাধনার সঙ্গে যুক্ত। “দোল পূর্ণিমার নিশি নির্মল আকাশ” হলো পাঁচালীর কাহিনি শুরু করার একটি পরিচিত পংক্তি।

আরেকটি বিষয়ও মনে রাখা দরকার। বিভিন্ন বই, পুঁথি, ওয়েবসাইট ও মৌখিক পাঠে এই সূচনাংশের শব্দে সামান্য পার্থক্য দেখা যায়। কোথাও “দোল পূর্ণিমার নিশি”, আবার কোনো পাঠে “শরৎ পূর্ণিমার নিশি” ধরনের পাঠ পাওয়া যায়। তাই অনলাইনে পাওয়া প্রতিটি সংস্করণকে একেবারে একই মূল পাঠ ধরে নেওয়া উচিত নয়।

লক্ষ্মীর পাঁচালীর মূল বক্তব্য কী?

এই ব্রতকথার গল্পগুলোতে কয়েকটি বিষয় বারবার ফিরে আসে—সংসারের ঐক্য, অভাবের সময় ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাস, লক্ষ্মী আরাধনা এবং পারিবারিক আচরণ।

ধনেশ্বর রায়ের পরিবারে একসঙ্গে থাকা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার পর যে পরিবর্তন আসে, সেটি পারিবারিক ঐক্যের গুরুত্ব বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে। আবার দরিদ্র পরিবারের ব্রত পালনের কাহিনি ভক্তি ও প্রার্থনার ওপর জোর দেয়।

তাই লক্ষ্মী ব্রতকথাকে শুধু ধনসম্পদ পাওয়ার গল্প হিসেবে দেখলে এর পুরো বিষয়টি ধরা পড়ে না। কাহিনিতে সংসারের শান্তি, পারস্পরিক সম্পর্ক এবং ধর্মীয় বিশ্বাসও গুরুত্বপূর্ণ জায়গা পেয়েছে।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন 

Q1. “Dol purnima nishi nirmal akash” কী?

এটি প্রচলিত বাংলা লক্ষ্মীর পাঁচালী বা লক্ষ্মী ব্রতকথার একটি পরিচিত সূচনাংশ। এর পরেই লক্ষ্মী-নারায়ণের কথোপকথন এবং দেবর্ষি নারদের আগমনের কাহিনি শুরু হয়।

Q2. লক্ষ্মীর পাঁচালী কোন সময়ের রচনা?

প্রচলিত মুদ্রিত সংস্করণ সম্পর্কে একটি তথ্যসূত্রে এর রচনাকাল খ্রিস্টীয় ১৮শ–১৯শ শতাব্দী এবং রচনাস্থল বরিশাল বিভাগ উল্লেখ করা হয়েছে। তবে নির্দিষ্ট সাল বা নিশ্চিত কোনো একক রচয়িতার পরিচয় পাওয়া যায় না।

Q3. ধনেশ্বর রায় কে ছিলেন?

লক্ষ্মীর পাঁচালীর কাহিনিতে ধনেশ্বর রায় একজন অত্যন্ত ধনী ব্যক্তি, যাঁর সাত পুত্র ছিল। তাঁর মৃত্যুর পর পুত্রদের পৃথক সংসার এবং পরবর্তী পারিবারিক দুর্দশা গল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে।

Q4. লক্ষ্মী ব্রত কোন দিনে করা হয়?

প্রচলিত বৃহস্পতিবারের লক্ষ্মী ব্রত বৃহস্পতিবার পালন করা হয়। ব্রতবিধির বর্ণনায় সন্ধ্যাবেলায় পূজা এবং ব্রতকথা পাঠ বা শ্রবণের উল্লেখ রয়েছে। পারিবারিক রীতিতে কিছু পার্থক্য থাকতে পারে।

Q5. এই পাঁচালী কি শুধু দোল পূর্ণিমায় পড়া হয়?

না। “দোল পূর্ণিমার নিশি নির্মল আকাশ” দিয়ে শুরু হওয়া পাঠটি লক্ষ্মীর পাঁচালীর সঙ্গে যুক্ত হলেও পুরো ব্রতকথা বৃহস্পতিবারের লক্ষ্মী ব্রতের সঙ্গেই বেশি পরিচিত। তাই এটিকে শুধু দোল পূর্ণিমার দিনের পাঠ হিসেবে সীমাবদ্ধ করা ঠিক নয়।

উপসংহার

Dol purnima nishi nirmal akash আসলে বাংলা লক্ষ্মীর পাঁচালী-র একটি বহুল পরিচিত সূচনাংশ, যার মাধ্যমে লক্ষ্মী-নারায়ণ, দেবর্ষি নারদ এবং মর্ত্যে লক্ষ্মী ব্রতের প্রচারের কাহিনি শুরু হয়। ধনেশ্বর রায়ের পরিবার, তাঁর মৃত্যুর পর সংসারের বিভাজন, বৃদ্ধার ছদ্মবেশে লক্ষ্মীর আবির্ভাব এবং পরবর্তী ব্রত পালনের ঘটনাগুলো এই কাহিনির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

এর নির্দিষ্ট রচনাসাল নিয়ে নিশ্চিত তথ্য সীমিত হলেও প্রচলিত মুদ্রিত সংস্করণকে ১৮শ–১৯শ শতাব্দীর সঙ্গে যুক্ত করা হয়। একই সঙ্গে বিভিন্ন পাঠে কিছু শব্দ ও ঘটনার পার্থক্য থাকায় একটিমাত্র সংস্করণকেই চূড়ান্ত পাঠ হিসেবে ধরা উচিত নয়।

সব মিলিয়ে, এই পাঁচালী বাংলা ঘরোয়া লক্ষ্মী পূজা, বৃহস্পতিবারের ব্রত এবং ব্রতকথা পাঠের দীর্ঘ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।